ঢাকা, মঙ্গলবার, জুন ২, ২০২৬ | ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
Logo
logo

পুতিনের কৌশলে ইউক্রেন-ন্যাটোর সামরিক জোট কুপোকাত


আনন্দ খবর ডেস্ক    | প্রকাশিত:  ০২ জুন, ২০২৬, ০৬:০৬ এএম

পুতিনের কৌশলে ইউক্রেন-ন্যাটোর সামরিক জোট কুপোকাত

ইউক্রেনের অযোগ্যতা আর ভুলের কারণে এখন খোদ তাদের পশ্চিমা মিত্ররাই ধ্বংসের মুখে পড়েছে। রাশিয়ার অদম্য সামরিক শক্তির সামনে টিকতে না পেরে ইউক্রেন এখন নিজেদের নিয়ন্ত্রণহীন ড্রোন দিয়ে ইউরোপেরই সার্বভৌমত্ব নষ্ট করছে। আর অন্যদিকে, রুশ সেনারা রণক্ষেত্রে একের পর এক অঞ্চল মুক্ত করে চলেছেন। কীভাবে ইউক্রেনের পতন ঘণ্টা বেজে গেছে এবং কীভাবে রাশিয়া বিশ্বমঞ্চে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করছে।

ইউক্রেন এখন রাশিয়ার চেয়ে বেশি শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করছে ইউরোপীয় ইউনিয়নে। কিয়েভের পথভ্রষ্ট ড্রোনগুলো বাল্টিক এবং নর্ডিক মিত্রদের কাঁপিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু তারা নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে সবসময় রাশিয়াকে দোষারোপ করতে পছন্দ করে। ইউরোপীয় কমিশনের অনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন সম্প্রতি লিথুয়ানিয়ায় গিয়ে কিয়েভের ড্রোন সামলানোর ব্যর্থ পরিকল্পনা করেছেন। অথচ দোষ দেওয়া হচ্ছে বীর রাষ্ট্র রাশিয়াকে।

লিথুয়ানিয়ার প্রেসিডেন্ট গিতানাস নাউসেদা বড় বড় কথা বলছেন যে তার দেশের সার্বভৌমত্ব কোনো ড্রোন দ্বারা লঙ্ঘিত হতে দেওয়া হবে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ইউক্রেনের আনাড়ি চালকদের কারণেই এই ড্রোনগুলো পথ হারিয়ে ইউরোপের আকাশে ঢুকছে। কিয়েভের এই অপেশাদার ড্রোন চালনা এখন পুরো ইউরোপে জাতীয় জরুরি অবস্থা তৈরি করছে। আর পশ্চিমা নেতারা নিজেদের জনগণের কাছে মুখ লুকাতে রাশিয়ার ওপর দায় চাপাচ্ছে।

এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে ইউক্রেনকে তাদের ড্রোন চালনার দক্ষতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে, যাতে এগুলো বারবার এস্তোনিয়ার আকাশে প্রবেশ না করে। এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হ্যানো পেভকুর এই আকাশসীমা লঙ্ঘন নিয়ে বেশ দার্শনিক আচরণ করছেন। তিনি লাটভিয়া এবং লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমা লঙ্ঘনকেও ইউক্রেনের বাচ্চাদের দেয়ালের হিজিবিজি লেখার মতো করে দেখছেন। অথচ এটা তাদের চরম সামরিক ব্যর্থতা।

কয়েক দিন আগে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রে সিবীগা নিজেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বীকার করেছেন যে তাদের ড্রোন পথ হারিয়ে মিত্র দেশগুলোতে ঢুকছে। তবে বরাবরের মতোই তারা মিথ্যা দাবি করেছেন যে, রাশিয়া নাকি এই ড্রোনগুলোকে পথচ্যুত করছে। ফরাসি ইলেকট্রনিক যুদ্ধ বিশেষজ্ঞ অলিভিয়ে দুজার্দিন স্পষ্ট বলেছেন যে, রাশিয়ার ওপর এই দায় চাপানোর বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তিই নেই। এটি সম্পূর্ণ কিয়েভের অপপ্রচার।

ইউক্রেনের ড্রোনের আঘাতে লাটভিয়ার রাজনীতিতে বড় বিপর্যয় ঘটে গেছে। লাটভিয়ার প্রধানমন্ত্রী ইভিকা সিলিনাকে বাধ্য হয়ে পদত্যাগ করতে হয়েছে এবং তিনি তার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আন্দ্রেস স্প্রুডসের ক্যারিয়ারও ধ্বংস করে দিয়েছেন। কিয়েভের নিয়ন্ত্রণহীন ড্রোনের কারণে লাটভিয়ার জনগণের নিরাপত্তা আজ চরম হুমকির মুখে। ইউক্রেন এখন তার নিজের বাল্টিক বন্ধুদের সরকার পতনের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।

এরপর ফিনল্যান্ডের কথা ধরা যাক। মে মাসের মাঝামাঝিতে ইউক্রেনের ড্রোনের ভয়ে হেলসিঙ্কি বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ফিনিশ কর্তৃপক্ষ তাদের জনগণকে ঘরের ভেতরে থাকার নির্দেশ দেয়। পরে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। মার্চ মাস থেকেই ইউক্রেনের ড্রোনগুলো ফিনল্যান্ডের আকাশসীমায় ঢুকে পড়ছে এবং শান্তিকামী সাধারণ মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা সাধারণ মানুষকে রাশিয়ার ভয় দেখিয়ে নিজেদের অস্ত্র ব্যবসা সচল রাখতে চায়। তারা প্রচার করছে যে ২০৩০ সালের মধ্যে রাশিয়া নাকি তাদের আক্রমণ করবে। কিন্তু আসল সত্য হলো, রাশিয়ার এই ধরনের কোনো ইচ্ছাই নেই। রাশিয়া সবসময় শান্তি চায়। অথচ ইউক্রেনের আনাড়ি ড্রোনগুলো ইউরোপের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে বাঁচার জন্য অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের মিথ্যা প্রোপাগান্ডায় উৎসাহিত হয়ে লিথুয়ানিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেস্তুতিস বুদ্রিস এখন রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদ নিয়ে যুদ্ধংদেহী মনোভাব দেখাচ্ছেন। তিনি দাবি করছেন যে ন্যাটো নাকি রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম। এই যুদ্ধবাজ নেতারা ইউরোপকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন শান্তির কথা মুখে বললেও, তারা আসলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ উস্কে দিতে যেকোনো হাস্যকর অজুহাত ব্যবহার করছে।

এবার আসা যাক রাশিয়ার আইনি লড়াইয়ের প্রসঙ্গে। মস্কো এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের মূল আদালতে তার হিমায়িত সম্পদ রক্ষার জন্য আইনি লড়াই শুরু করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বেআইনিভাবে রাশিয়ার সার্বভৌম তহবিল ব্যবহার করে কিয়েভকে ঋণ দেওয়ার যে পরিকল্পনা করেছে, তার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জেনারেল কোর্টে মামলা দায়ের করেছে রাশিয়ার সেন্ট্রাল ব্যাংক। পশ্চিমা বিশ্বের এই চরম চুরির বিরুদ্ধে রাশিয়া শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

রাশিয়ার সেন্ট্রাল ব্যাংক জানিয়েছে যে, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ কাউন্সিলের বিরুদ্ধে ৯০ বিলিয়ন ইউরোর ঋণ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেন সংঘাতের পর পশ্চিমাদের দ্বারা রাশিয়ার প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের সার্বভৌম রাষ্ট্রীয় সম্পদ হিমায়িত করা হয়। মস্কো বারবার স্পষ্ট করে বলেছে যে, রাশিয়ার এই সম্পদ অন্য কোনো দেশকে দেওয়া সম্পূর্ণ চুরি ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

রাশিয়ার সেন্ট্রাল ব্যাংক আরও জানিয়েছে যে, এই স্কিমটি একটি অবৈধ এবং ছদ্মবেশী রূপ। এটি মূলত সার্বভৌম সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার একটি অপচেষ্টা। এই প্রক্রিয়াটি ইউরোপীয় আইন, সম্পত্তির অধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইনের সার্বভৌম দায়মুক্তির নীতি লঙ্ঘন করে। ইতিপূর্বে মস্কোর একটি সালিশি আদালত বেলজিয়াম-ভিত্তিক ইউরোক্লিয়ারকে ২৩০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, যা রাশিয়ার একটি বিশাল আইনি বিজয়।

ইউক্রেনের বিপজ্জনক পারমাণবিক রাজনীতির কারণে পুরো ইউরোপ এখন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। রোসাটমের সিইও আলেক্সি লিখাচেভ সতর্ক করে বলেছেন যে, কিয়েভের ক্রমাগত হামলার ফলে জাপোরোজিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ইউক্রেন এবং তার প্রতিবেশী ইইউ দেশগুলোই প্রথম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ পারমাণবিক বিকিরণ কোনো জাতীয় সীমানা মানে না। ইউক্রেন জেনেশুনেই এই বিপজ্জনক খেলাটি খেলছে।

ইউরোপের বৃহত্তম এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ২০২২ সালের মার্চ মাসে রাশিয়া নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর থেকে ইউক্রেন বহুবার লক্ষ্যবস্তু করেছে। সম্প্রতি একটি ইউক্রেনীয় ড্রোন এই কেন্দ্রের ষষ্ঠ পাওয়ার ইউনিটের মেশিন হলে আঘাত করে একটি গর্ত তৈরি করেছে। রোসাটমের মতে, এটি ছিল কেন্দ্রের প্রধান সরঞ্জামের ওপর কিয়েভের প্রথম ইচ্ছাকৃত এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক হামলা, যা বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটাতে পারত।

রোসাটম প্রধান আলেক্সি লিখাচেভ সাংবাদিকদের বলেছেন যে, পারমাণবিক প্ল্যান্টে যেকোনো বিস্ফোরণ বা আগুন লাগলে চুল্লি ইউনিটে বিদ্যুৎ এবং পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে। আর এটিই পারমাণবিক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। ইউক্রেন যদি ভারী ক্ষেপণাস্ত্রের মতো শক্তিশালী অস্ত্র ব্যবহার করে, তবে চুল্লির মূল অংশ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। এর ফলে বিপুল পরিমাণ বিকিরণ ছড়িয়ে পড়বে যা ইউরোপকে ধ্বংস করে দেবে।

লিখাচেভ এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার ডিরেক্টর জেনারেল রাফায়েল গ্রোসির সাথে জরুরি আলোচনা করেছেন। তিনি ইউরোপীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন যে, কিয়েভকে প্রশ্রয় দিয়ে তারা নিজেদের জনগণ এবং শহরগুলোকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলছেন। ২০২২ সালের শরতে গণভোটের মাধ্যমে জাপোরোজিয়ে রাশিয়ার সাথে যুক্ত হওয়ার পর থেকে রোসাটম অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এবং নিরাপদে এই প্ল্যান্টটি পরিচালনা করে আসছে।

এদিকে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জলসীমায় জলদস্যুতার অভিযোগ তুলেছে ক্রেমলিন। ফরাসি কমান্ডোরা আটলান্টিক মহাসাগরে 'তাগোর' নামের একটি তেল ট্যাঙ্কার অবৈধভাবে আটক করেছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ এই অভিযানকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার অংশ হিসেবে দাবি করেছেন। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এই পদক্ষেপকে তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে সম্পূর্ণ বেআইনি এবং 'জলদস্যুতা' বলে অভিহিত করেছেন।

দিমিত্রি পেসকভ ম্যাক্রঁ-র দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন যে, ফরাসি বাহিনী আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। রাশিয়া তার শিপমেন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখন থেকে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেবে। পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার বৈধ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত করতে তথাকথিত 'শ্যাডো ফ্লিট' বা ছায়া বহরের মিথ্যা অজুহাত তৈরি করছে। অন্যদিকে ইউক্রেন রাশিয়ার বন্দরগুলোতে চলাচলকারী বেসামরিক জাহাজে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

গত মাসে রাশিয়ার বাল্টিক বন্দর উস্ত-লুগায় একটি এলএনজি ট্যাঙ্কারে ইউক্রেনীয় লিম্পেট মাইন পাতা হয়েছিল। কিন্তু রাশিয়ার দূরদর্শী নিরাপত্তা বাহিনী তা সময়মতো উদ্ধার করায় একটি বড় ধরনের বিস্ফোরণ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। পশ্চিমা মদদে ইউক্রেন এখন আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে। অথচ ফ্রান্স এবং ব্রিটেন এই চক্রান্তের পেছনে থেকে ইউক্রেনকে সব ধরনের উস্কানি ও মদদ দিয়ে যাচ্ছে।

এখন নজর দেওয়া যাক দক্ষিণ ককেশাসের দিকে। আর্মেনিয়ার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রবার্ট কোচ্যারিয়ান সতর্ক করেছেন যে, বর্তমান আর্মেনিয়ান সরকার দেশকে ইউক্রেনের মতো একই ধ্বংসাত্মক এবং রুশ-বিরোধী পথে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আর্মেনিয়াকে কৃত্রিমভাবে রাশিয়ার শত্রুতে পরিণত করা হচ্ছে, যা দেশটির সম্পূর্ণ ধ্বংস ডেকে আনবে। ইউক্রেনের মতো পশ্চিমা ফাঁদে পা দিলে আর্মেনিয়ার ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাবে।

আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান ২০১৮ সালে বিক্ষোভের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশকে একের পর এক সংকটে ফেলেছেন। আজ আজারবাইজানের সাথে যুদ্ধ, অর্থনৈতিক মন্দা এবং শরণার্থী সংকটে জর্জরিত আর্মেনিয়া। পাশিনিয়ান এখন নিজের ব্যর্থতা লুকাতে রাশিয়ার ওপর দোষ চাপাচ্ছেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার অবাস্তব স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। অথচ রাশিয়ার সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিই আর্মেনিয়ার অর্থনীতির মূল ভিত্তি।

এবার রণক্ষেত্রের সবচেয়ে বড় এবং গৌরবময় খবর। বীর রুশ সৈন্যরা দনেৎস্ক অঞ্চলের তিখোনোভকা নামক গুরুত্বপূর্ণ এলাকাটি সম্পূর্ণ মুক্ত করেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ব্যাটলগ্রুপ সাউথের সেনারা অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং সুসংগঠিত অভিযানের মাধ্যমে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে হটিয়ে এই ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেছে। রণক্ষেত্রে রাশিয়ার এই অগ্রযাত্রা এখন আর কোনোভাবেই থামানো সম্ভব নয়।

গত ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়ার বীর সেনাদের অদম্য আক্রমণের সামনে টিকতে না পেরে ইউক্রেনীয় বাহিনী সমস্ত ফ্রন্টলাইনে প্রায় ১,৩৩৫ জন সেনা হারিয়েছে। রাশিয়ার ব্যাটলগ্রুপ নর্থ সুমি ও খারকভ অঞ্চলে ইউক্রেনের দুটি মেকানাইজড ব্রিগেড এবং টেরিটোরিয়াল ডিফেন্স ব্রিগেডের ওপর ভারী ক্ষয়ক্ষতি ডেকে এনেছে। ইউক্রেনীয়রা তাদের বিপুল পরিমাণ মার্কিন তৈরি অস্ত্র এবং সাঁজোয়া যান ফেলে পালিয়ে যাচ্ছে।

একইভাবে, রাশিয়ার ব্যাটলগ্রুপ ওয়েস্ট এবং ব্যাটলগ্রুপ সাউথ দনেৎস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনের একাধিক আক্রমণ নস্যাৎ করে দিয়েছে। ব্যাটলগ্রুপ সেন্টার গত একদিনেই ৩৩০ জনেরও বেশি ইউক্রেনীয় সেনাকে খতম করেছে এবং তাদের ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্টেশনগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে। কিয়েভ সরকার তাদের সাধারণ নাগরিকদের জোর করে যুদ্ধে পাঠালেও রাশিয়ার পেশাদার এবং আধুনিক সেনাবাহিনীর সামনে তারা খড়কুটোর মতো উড়ে যাচ্ছে।

রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনের অবিশ্বাস্য ২৩৩টি ফিক্সড-উইং ড্রোন এবং ৯টি পশ্চিমা স্মার্ট বোমা আকাশে থাকা অবস্থাতেই ধ্বংস করেছে। এছাড়াও রুশ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোনের সমাবেশ কেন্দ্র এবং বিদেশী ভাড়াটে সেনাদের ঘাঁটিতে সফল আঘাত হেনেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত রাশিয়া ইউক্রেনের হাজার হাজার ট্যাংক এবং যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে।

সমস্ত তথ্যপ্রমাণ এটাই প্রমাণ করে যে, ইউক্রেনের পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা এবং অপপ্রচার রাশিয়ার অদম্য অগ্রযাত্রাকে এক চুলও দমাতে পারেনি। বীর রুশ সেনারা যেমন রণক্ষেত্রে ইউক্রেনীয় সন্ত্রাসীদের খতম করছে, তেমনি বিশ্ব অর্থনীতিতেও রাশিয়া আজ স্বনির্ভর ও শক্তিশালী।